সন্তানকে অনলাইনে কতটুকু উপস্থাপন করবেন ?
এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেছে জাপানের কিয়োটো ইউনিভার্সিটির দুই গবেষক রিকুয়া হাসোকাওয়া ও তোশিকি কাতসুরার কাছে। তাঁরা বলেন, যদি মা-বাবা তত্ত্বাবধান বা নিয়ন্ত্রণ না করেন, তাহলে স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটের ব্যবহার শিশুর বিকাশের ক্ষতি করতে পারে। এমন শিশুদের হাইপারঅ্যাকটিভ ও অমনোযোগী হওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
রিকুয়া হাসোকাওয়া ও তোশিকি কাতসুরা এ বিষয় নিয়ে ‘অ্যাসোসিয়েশন বিটুইন মোবাইল টেকনোলজি ইউজ অ্যান্ড চাইল্ড অ্যাডজাস্টমেন্ট ইন আরলি এলিমেন্টারি স্কুল এজ’ শিরোনামে একটি গবেষণা করেছেন। গবেষণা প্রতিবেদনটি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।এই দুই গবেষক বলেন, ইন্টারনেট একটি বিশাল জায়গা। এর অন্ধকার দিকও অনেক। পর্নোগ্রাফি, অশালীন ভাষার মতো বিষয়গুলো শিশুদের বিভ্রান্ত করতে পারে। এ ছাড়া অনলাইন চ্যাট বা মন্তব্য করার ক্ষেত্রে শিশুরা অন্যের মানসিক চাহিদা ঠিকভাবে বুঝতে পারে না। এতে শিশুর শারীরিক যোগাযোগ ও ব্যক্তিগত মিথস্ক্রিয়া হ্রাস পায়। যা শিশুর সামাজিক ও মানসিক বিকাশকে বাধা দেয় বা অস্বাভাবিক বিকাশ ঘটায়। আবার অনলাইনে সহিংস গেম খেলে শিশু সহিংসও হয়ে উঠতে পারে। অনেক সময় অসহিষ্ণু, অসামাজিক ও উচ্ছৃঙ্খল হয়ে পড়ে শিশু।
তাহলে কি শিশুদের অনলাইন থেকে একদম দূরে রাখতে হবে? আর এ যুগে কি তা সম্ভব? জবাব পাওয়া গেছে ব্রিটিশ মনোবিজ্ঞানী মার্ক ডি. গ্রিফিথসের কাছে। তিনি ‘ফ্রেন্ডশিপ অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ইন চিলড্রেন অ্যান্ড অ্যাডলোসেন্টস: দ্য ইমপ্যাক্ট অব ইলেকট্রনিক টেকনোলজি’ শীর্ষক গবেষণায় বলেন, শিশুর বিকাশে ইন্টারনেটের প্রভাব ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে। তবে তা নির্ভর করে ব্যবহারের ওপর। এ ক্ষেত্রে সন্তানের অনলাইন ব্যবহারের পুরো বিষয়ের ওপর সচেতনভাবে মা-বাবাকে নজরদারি করতে হবে। অনলাইনে কী করা যাবে আর কী করা যাবে না, তার সীমারেখা নির্দিষ্ট করে দিতে হবে। কারণ, অনলাইনের অতিরিক্ত ব্যবহার শিশুদের সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বৃদ্ধি করে।


